আমাদের প্রচেষ্টা
ঈমানের উপর জীবন,
ঈমানের উপর মৃত্যু
ঈমান নিয়ে জীবনযাপন এবং ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করা একজন মুসলিমের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী মানুষের চূড়ান্ত প্রত্যাশা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ করা। তাই জীবনের প্রতিটি কাজে এই লক্ষ্যকে সামনে রাখা প্রয়োজন।
জীবনের মূল লক্ষ্য
প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের দৈনন্দিন সব কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। জান্নাত লাভের প্রত্যাশাই আমাদের এই চেষ্টার প্রেরণা।
জান্নাত লাভের জন্য আমৃত্যু ঈমানের উপর অটল থাকা জরুরি। এজন্য ঈমান বলতে কী বোঝায়, কী কী বিশ্বাস করা অপরিহার্য—এসব জানার পাশাপাশি কোন কোন কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তা জানাও অত্যন্ত জরুরি।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা যথার্থভাবে আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমরা মুসলিম (পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না।আল-কুরআন, ৩:১০২
আয়াতের শিক্ষা
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঈমানের ওপর অটল থাকা
এই আয়াত আমাদের মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণের নির্দেশ দেয়। সে লক্ষ্য সামনে রেখে সারা জীবন, প্রতিটি মুহূর্ত ঈমান রক্ষার চেষ্টা করতে হবে। কোন বিশ্বাস ও কাজ ঈমানের পরিপন্থী এবং কী কারণে ঈমান নষ্ট হতে পারে, তা জানা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঈমান হারানোর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা
সারা জীবন মুসলিম হিসেবে কাটানোর পরও মৃত্যুর আগে ঈমান হারিয়ে অমুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সব সৎকর্ম ও ইবাদত বৃথা হয়ে যাওয়ার এবং জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঈমান রক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
আমাদের করণীয়
দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন
যে কয়েকটি কারণে একজন মুসলিম ঈমান হারিয়ে অমুসলিম হয়ে যেতে পারেন, তার একটি হচ্ছে দ্বীন ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। ইসলামি স্কলারদের ব্যাখ্যায় এর মধ্যে দ্বীন না শেখা বা বাস্তবায়ন না করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
দ্বীন শেখা
ঈমান, আক্বীদাহ ও ইসলামের অপরিহার্য বিধান সম্পর্কে নিজে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা।
শিক্ষার ব্যবস্থা করা
নিজের সন্তান-সন্ততি ও দায়িত্বাধীনদের জন্য প্রয়োজনীয় দ্বীন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
দ্বীন বাস্তবায়ন
শেখা জ্ঞানকে কেবল তথ্য হিসেবে না রেখে বিশ্বাস, চরিত্র ও দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করা।
শেষ বিচারের দিনে সন্তান ও দায়িত্বাধীন ব্যক্তিদের দ্বীন শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে এই দায়িত্বের কথা মনে রাখা প্রয়োজন।
সমকালীন বাস্তবতা
মৌলিক দ্বীন শিক্ষার প্রতি উদাসীনতা
সমকালীন মুসলিম পরিবারগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, একেবারে মৌলিক—অর্থাৎ যা না হলেই নয়—এমন দ্বীন শিক্ষার প্রতিও অনেকের যথেষ্ট অনীহা। এ অবস্থায় দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ভয় এবং আখিরাতে সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
দুনিয়াতে সামাজিক মূল্যবোধের অভাবজনিত বিশৃঙ্খলা, দুর্গতি ও অশান্তি তো রয়েছেই; পাশাপাশি আখিরাতের ক্ষতির সম্ভাবনাও আমাদের গভীরভাবে ভাবায়।
প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য
মুসলিম হতে ও আমৃত্যু ইসলামের উপর দৃঢ় থাকার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষার সুযোগ
এসব কথা মাথায় রেখেই মুসলিম ঘরের সন্তানদের ন্যূনতম মুসলিম হতে ও থাকতে যে মৌলিক জ্ঞান ও শিক্ষার প্রয়োজন, সেটুকুর সুযোগ করে দেওয়ার সংকল্প নিয়ে সম্পূর্ণ অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা করা হয়।